জাতীয় পরিচয়পত্রে পরিপূর্ণ পর্দাপ্রথা অক্ষুণ্ন রেখে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন রাজারবাগ দরবার শরীফ-এর মহিলা আনজুমান। সোমবার (২১ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মহিলা আনজুমানের সদস্য শারমিন ইয়াসমিন বলেন, 'দেশে অসংখ্য নারী আছৈন যাঁরা পবিত্র কোরআন-সুন্নাহর আলোকে পরিপূর্ণ পর্দা করার চেষ্টা করেন। অথচ একজন নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা পেতে জাতীয় পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন কাগজ করার জন্য পর্দা খুলে চেহারা দেখিয়ে ছবি তুলতে হয়।
এভাবে ছবি না তোলার কারণে এসব নারীরা জাতীয় পরিচয়পত্রসহ অনেক সরকারি কাগজ তৈরি করতে পারছেন না।
পরিচয় শনাক্তকরণে সম্প্রতি ব্যবহৃত হচ্ছে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি। তাই, পর্দা করেন এমন নারীদের শনাক্তকরণে ছবি পদ্ধতির বদলে বায়োমেট্রিক পদ্ধতি ব্যবহারের দাবি জানান শারমিন ইয়াসমিন।

এছাড়াও যদি দুই জমজের চেহারা এক হয় তখন ছবি কোনো কাজে দেব না বলেও যুক্তি দেন তিনি।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত প্রত্যেক নারীই ছিলেন কালো হিজাবে পরিপূর্ণ আবৃত। তাদের কণ্ঠস্বরও ছিলো নিচু।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত রহিমা আহমদ ও ত্বহিরা জাহান নামে দুজন বলেন, চেহারা খুলে ছবি না তোলায় তারা পরিচয়পত্র তৈরি করতে পারেননি।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সংবিধানের ৪১(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মপালন ও প্রচারের অধিকার রয়েছে। তাই একজন পর্দানশীন মহিলার ছবি না তোলার অধিকার রয়েছে। ছবির মাধ্যমে কারো পরিচয় নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা সম্ভব নয়। আঙ্গুলের ছাপ বা বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে শতভাগ নির্ভুলভাবে পরিচয় শনাক্ত করা যায়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আনজুমানের সদস্য সুমাইয়া আহমদ, মাশহুরাহ ফিরদাউসী।
সংগঠনটির দাবি, পরিচয় শনাক্তকরণে আধুনিক যুগে বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতির নাম বায়োমেট্রিক পদ্ধতি। প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ায় এতে শনাক্তকরণ প্রায় শতভাগ নির্ভুল। এ পদ্ধতিতে কখনোই দুই ব্যক্তির মধ্যে মিল পাওয়া যায় না। বয়স বা শারীরিক অবস্থার পরিবর্তনেও এ পদ্ধতিতে কোনো তারতম্য ঘটে না।